প্রগতি সিস্টেমস লিমিটেড (টালিখাতা): একটি বিস্তৃত পরিচিতি
বাংলাদেশের উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রগতি সিস্টেমস লিমিটেড, তাদের ফ্ল্যাগশিপ প্ল্যাটফর্ম 'টালিখাতা' এবং এর সাথে যুক্ত 'টালি-পে' ওয়ালেটের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (MSME) জন্য একটি অগ্রণী ফিনটেক সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দেশের ৫ মিলিয়নেরও বেশি ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ব্যাংক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সহজলভ্য কার্যনির্বাহী মূলধন ঋণ প্রদানে টালিখাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিষ্ঠা ও পটভূমি
প্রগতি সিস্টেমস লিমিটেড ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে একটি বেসরকারি কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত। এর সদর দপ্তর ঢাকার বনানীতে অবস্থিত। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর, টালিখাতা দ্রুত দেশের অসংগঠিত খাতের দোকানদার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এর মালিকানায় প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা ছাড়াও এসবিআই গ্রুপ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ভেঞ্চারস এবং অন্যান্য এশিয়া-প্যাসিফিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলির মতো কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের সমর্থন রয়েছে। এই বিনিয়োগ তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বাজার প্রসারে সহায়তা করেছে।
ব্যবসায়িক মডেল ও লক্ষ্য
টালিখাতা মূলত একটি মোবাইল-কেন্দ্রিক হিসাবরক্ষণ এবং পেমেন্ট অ্যাপ, যা ছোট দোকানদার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এর ফ্রীমিয়াম মডেল ব্যবহারকারীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে আসে:
- বিনামূল্যে পরিষেবা: লেনদেন রেকর্ড, এসএমএস এলার্ট এবং ক্যাশ-বক্স ব্যবস্থাপনা।
- ডিজিটাল ওয়ালেট: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত পিএসপি (পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার) লাইসেন্সের অধীনে পরিচালিত 'টালি-পে' ওয়ালেট।
- প্রিমিয়াম গোল্ড টিয়ার: একাধিক ব্যবসা পরিচালনা এবং স্টক অ্যাকাউন্টিংয়ের মতো উন্নত বৈশিষ্ট্যগুলি আনলক করে।
টালিখাতার রাজস্ব মূলত ওয়ালেট লেনদেন ফি (যদিও মূল লেনদেনের জন্য ফি শূন্য), প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এবং ঋণ অংশীদারদের থেকে প্রাপ্ত রেফারেল ফি থেকে আসে। এর লক্ষ্য হলো দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সহজ করা এবং তাদের জন্য আর্থিক পরিষেবা সহজলভ্য করা।
নেতৃত্ব ও পরিচালনা
প্রগতি সিস্টেমস লিমিটেডের নেতৃত্বে রয়েছেন একদল অভিজ্ঞ পেশাদার। প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ড. শাহাদাত খান, যিনি একজন পিএইচডি এবং বুয়েটের প্রাক্তন অধ্যাপক, তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সমাধানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সিটিও মাহফুজুর রহমান, হেড অফ বিজনেস ফারুকে হোসেন রাজ এবং চিফ বিজনেস অফিসার মো. আবু তালেব। প্রকৌশল, ডেটা সায়েন্স, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং অংশীদারিত্ব বিভাগে ৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল কাজ করছে, যারা টালিখাতার উদ্ভাবনী শক্তিকে চালিত করছে।
টালিখাতার আর্থিক পরিষেবা ও ঋণের খুঁটিনাটি
টালিখাতা কেবল একটি হিসাবরক্ষণ অ্যাপ নয়, এটি অংশীদার ব্যাংকগুলির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণও প্রদান করে। এটি উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যনির্বাহী মূলধন এবং ব্যবসার প্রসারের সুযোগ তৈরি করে।
ঋণ পণ্য ও পরিমাণ
টালিখাতা তার অংশীদার ব্যাংক, যেমন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (MTB), মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংকের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিম্নলিখিত ঋণ পণ্যগুলি অফার করে:
- কার্যনির্বাহী মূলধন ঋণ: মূলত দোকানের পণ্য সামগ্রী এবং কাঁচামাল কেনার জন্য এই ঋণ দেওয়া হয়।
- ব্যবসায়িক ঋণ: নির্বাচিত ব্যাংক অংশীদারদের মাধ্যমে মাঝারি উদ্যোগ পর্যন্ত ব্যবসায়িক ঋণের সুবিধা রয়েছে।
ঋণের পরিমাণ সাধারণত সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ১,০০,০০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য কার্যনির্বাহী মূলধন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা সাধারণত ১,০০,০০০০ টাকা রাখা হয়, যা গ্রাহকের ব্যবসার আকার এবং প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তিত হতে পারে।
সুদের হার, মেয়াদ ও পরিশোধ
টালিখাতার মাধ্যমে প্রদত্ত ঋণের সুদের হার সাধারণত বার্ষিক ১২% থেকে ১৮% (ফ্ল্যাট) এর মধ্যে থাকে। এর সমতুল্য বার্ষিক শতাংশ হার (APR) প্রায় ১৬% থেকে ২৫% হতে পারে। সুদের হার ব্যাংক অংশীদার এবং ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট প্রোফাইল অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। ঋণের মেয়াদ ৩ মাস থেকে ১২ মাস পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি মাসিক কিস্তিতে বা পণ্যের ধরন অনুযায়ী এককালীন পরিশোধের মাধ্যমে শোধ করা যায়।
ফি ও জামানত
ঋণ প্রক্রিয়া সহজ হলেও কিছু ফি প্রযোজ্য হতে পারে:
- প্রসেসিং ফি: ঋণের ১% থেকে ২% পর্যন্ত প্রসেসিং ফি লাগতে পারে, যা সাধারণত অংশীদার ব্যাংক কর্তৃক ধার্য করা হয়।
- বিলম্ব ফি: যদি কোনো কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব হয়, তবে প্রতি মাসের বকেয়া কিস্তির উপর ২% বিলম্ব ফি ধার্য করা হতে পারে।
- আগাম পরিশোধ: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঋণের টাকা আগাম পরিশোধ করলে কোনো জরিমানা দিতে হয় না, তবে এটি অংশীদার ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
টালিখাতার প্রযুক্তি-ভিত্তিক আন্ডাররাইটিং পদ্ধতির কারণে ২,০০,০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণ সাধারণত জামানতবিহীন হয়ে থাকে। তবে, উচ্চতর ঋণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গ্যারান্টি বা ব্যবসায়িক সম্পদের উপর নিবন্ধিত চার্জ প্রয়োজন হতে পারে।
আবেদন প্রক্রিয়া, প্রযুক্তি ও বাজার অবস্থান
টালিখাতা তার ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সহজ এবং কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে, যা প্রযুক্তির মাধ্যমে ঋণ আবেদন থেকে শুরু করে বাজার প্রতিযোগিতা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে।
ঋণের আবেদন ও কেওয়াইসি
টালিখাতার মাধ্যমে ঋণের আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ এবং মূলত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
- মোবাইল অ্যাপ: অ্যাপটি অ্যাকাউন্ট খোলা, লেনদেন রেকর্ড করা এবং ঋণ আবেদনের জন্য প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- ওয়েবসাইট: ওয়েবসাইটটি মূলত তথ্যমূলক এবং ঋণ বিতরণ বা ওয়ালেটে অর্থ যোগ করার জন্য ব্যবহারকারীদের অ্যাপে নির্দেশ করে।
- ব্যাংক রেফারেল: মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, মিডল্যান্ড এবং ব্র্যাক ব্যাংকের শাখাগুলিতে কিউআর কোড লিঙ্কের মাধ্যমেও গ্রাহকদের টালিখাতার প্ল্যাটফর্মে অনবোর্ড করা হয়।
কেওয়াইসি (আপনার গ্রাহককে জানুন) প্রক্রিয়াটি ই-কেওয়াইসি পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং সেলফি ম্যাচিং ব্যবহার করা হয়। ব্যবসার অবস্থান যাচাইয়ের জন্য জিওট্যাগ করা দোকানের ছবি ব্যবহার করা হয়। ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত, ২ মিলিয়নেরও বেশি দোকানদার সফলভাবে কেওয়াইসি সম্পন্ন করেছেন। টালিখাতা তার নিজস্ব এআই-চালিত ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোর ব্যবহার করে ঋণগ্রহীতার লেনদেনের ইতিহাস, নগদ প্রবাহ এবং সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) ডেটা বিশ্লেষণ করে ক্রেডিট স্কোরিং করে। ঋণ বিতরণের পদ্ধতিগুলির মধ্যে রয়েছে ব্যাংক ট্রান্সফার, মোবাইল মানি (যেমন সিওরক্যাশ) এবং ওয়ালেট-ভিত্তিক ঋণের জন্য এজেন্ট আউটলেট থেকে নগদ উত্তোলন।
মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল উপস্থিতি
টালিখাতার মোবাইল অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস উভয় প্ল্যাটফর্মেই উপলব্ধ। গুগল প্লে স্টোরে এর রেটিং ৪.১ (৫ মিলিয়নেরও বেশি ইনস্টল) এবং অ্যাপ স্টোরে রেটিং প্রায় ৪.০। অ্যাপটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে লেজার ব্যবস্থাপনা, এসএমএস এলার্ট, অ্যানালিটিক্স ড্যাশবোর্ড, সমন্বিত টালি-পে ওয়ালেট, কিউআর-ভিত্তিক পেমেন্ট, ঋণ আবেদন প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোর প্রদর্শন। টালিখাতার একটি সক্রিয় ওয়েবসাইট (tallykhata.com) রয়েছে এবং এটি লিঙ্কডইন, ফেসবুক এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতেও তার উপস্থিতি বজায় রাখে। দেশব্যাপী এর কভারেজ রয়েছে, বিশেষত ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং বরিশালে এর শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা যায়। ৫ মিলিয়নেরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবসা এবং ১ মিলিয়নেরও বেশি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী নিয়ে টালিখাতা দেশের একটি বৃহৎ গ্রাহক গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছেছে। এর গ্রাহকদের মধ্যে প্রধানত গ্রামীণ এবং শহরতলির মুদি, ফার্মেসি এবং সাধারণ দোকানের মালিকরা অন্তর্ভুক্ত।
নিয়ন্ত্রক সম্মতি ও বাজার শেয়ার
প্রগতি সিস্টেমস লিমিটেড বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেমেন্ট এবং সেটেলমেন্ট সিস্টেম রেগুলেশনস ২০১৪-এর অধীনে পিএসপি লাইসেন্স প্রাপ্ত। তারা পিসিআই ডিএসএস সার্টিফিকেশনও অর্জন করেছে, যা ওয়ালেট কার্যক্রমের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং (AML) এবং কাউন্টার টেরোরিস্ট ফাইন্যান্সিং (CTF) নির্দেশিকা মেনে চলে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাহ্যিক পরামর্শদাতাদের দ্বারা নিয়মিত নিরীক্ষিত হয়। এখন পর্যন্ত টালিখাতার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা প্রয়োগকারী পদক্ষেপের খবর নেই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ প্ল্যাটফর্মে টালিখাতার বাজার শেয়ার প্রায় ৪০%। এর প্রধান প্রতিযোগীদের মধ্যে রয়েছে খাতা-বুক, শপআপ ক্রেডিট এবং পাঠাও ফাইন্যান্স। তবে, টালিখাতা তার এআই-ভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিংয়ের জন্য গভীর লেনদেনের ডেটা, একীভূত পেমেন্ট ও ঋণ পরিষেবা এবং শক্তিশালী ব্যাংক অংশীদারিত্বের (যেমন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক) মাধ্যমে নিজেকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে।
গ্রাহক অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য পরামর্শ
টালিখাতা তার ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়, যা এর শক্তি এবং উন্নতির ক্ষেত্রগুলি তুলে ধরে। সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রাহক পর্যালোচনা ও সমর্থন
গুগল প্লে স্টোরে টালিখাতার ৪.১ রেটিং রয়েছে, যেখানে ৪৪.৬ হাজারেরও বেশি রিভিউ জমা পড়েছে। গ্রাহকরা সাধারণত হিসাবরক্ষণের সহজলভ্যতা এবং দ্রুত ঋণ অনুমোদনের প্রশংসা করেন। কিছু অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মাঝে মাঝে কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং অ্যাপের ক্র্যাশ সমস্যা। টালিখাতা ইন-অ্যাপ চ্যাট সমর্থন, একটি কল সেন্টার (প্রতি মিনিটে ১০ টাকা চার্জ) এবং ইমেলের ([email protected]) মাধ্যমে গ্রাহক পরিষেবা প্রদান করে। তাদের গড় প্রতিক্রিয়া সময় ২৪ ঘণ্টার কম। প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের গল্পগুলি, যেমন বরিশালের একজন গ্রামীণ খুচরা ব্যবসায়ী ১৫০,০০০ টাকার MTB ঋণের মাধ্যমে তার পণ্যের স্টক ২০০% বাড়িয়েছেন এবং সিলেটের ফার্মেসিগুলি এসএমএস এলার্ট ব্যবহার করে ক্রেডিট বিরোধ ৮০% কমিয়েছে, তা টালিখাতার ইতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ।
প্রতিযোগীদের সাথে তুলনা ও প্রগতি সিস্টেমস এর স্বাতন্ত্র্য
বাংলাদেশের ফিনটেক বাজারে টালিখাতার প্রতিদ্বন্দ্বী যেমন খাতা-বুক, শপআপ ক্রেডিট, পাঠাও ফাইন্যান্স রয়েছে। তবে, টালিখাতা তার কিছু স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্য নিয়ে এগিয়ে আছে:
- ডেটা-চালিত ক্রেডিট স্কোরিং: টালিখাতা অ্যাপে রেকর্ড করা লেনদেনের ডেটা ব্যবহার করে একটি নিজস্ব এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোর তৈরি করে, যা প্রচলিত ঋণ ব্যবস্থার চেয়ে দ্রুত এবং অধিক নির্ভুল।
- সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম: হিসাবরক্ষণ, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ঋণ পরিষেবার একীভূত ব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ওয়ান-স্টপ সমাধান প্রদান করে।
- শক্তিশালী ব্যাংক অংশীদারিত্ব: মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক এবং মিডল্যান্ড ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে অংশীদারিত্ব টালিখাতাকে আরও বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ঋণের সহজলভ্যতা প্রদান করে।
টালিখাতা ২০১৬ সাল থেকে ব্যবহারকারী বৃদ্ধিতে প্রায় ৬০% বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হার (CAGR) দেখিয়েছে। ভবিষ্যতে তারা পে-লেটার (এখন কিনুন পরে পরিশোধ করুন) পণ্য এবং ইনভেন্টরি ফাইন্যান্সিং আনার পরিকল্পনা করছে। ভিসা এক্সিলারেটর কোহর্ট মেম্বার (২০২২) হিসেবেও তারা স্বীকৃতি পেয়েছে।
ঋণগ্রহীতাদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ
টালিখাতার মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করা উচিত:
- সঠিক তথ্য প্রদান: ঋণ আবেদনের সময় সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করুন, বিশেষ করে কেওয়াইসি এবং ব্যবসার বিবরণ।
- লেনদেন নিয়মিত করুন: টালিখাতা অ্যাপে আপনার দৈনন্দিন লেনদেন নিয়মিতভাবে রেকর্ড করুন। এটি আপনার ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোর উন্নত করতে এবং ভবিষ্যতের ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে সাহায্য করবে।
- সুদের হার ও ফি বুঝুন: ঋণের জন্য আবেদন করার আগে সুদের হার, প্রসেসিং ফি, বিলম্ব ফি এবং অন্য কোনো লুকানো চার্জ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখুন। প্রয়োজনে অংশীদার ব্যাংকের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করুন।
- পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করুন: আপনার ব্যবসার নগদ প্রবাহ এবং পরিশোধের সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ঋণের পরিমাণ এবং মেয়াদ নির্বাচন করুন। সময়মতো কিস্তি পরিশোধ আপনার ক্রেডিট স্কোর উন্নত করবে।
- অ্যাপের ব্যবহার: টালিখাতা অ্যাপের সমস্ত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত থাকুন এবং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন। এটি আপনার ব্যবসার আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত করবে।
- গ্রাহক পরিষেবার ব্যবহার: কোনো সমস্যা বা প্রশ্ন থাকলে অ্যাপের ইন-অ্যাপ চ্যাট বা কল সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহক পরিষেবার সাথে যোগাযোগ করুন।
টালিখাতা বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য আর্থিক অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এর ডিজিটাল সমাধানগুলি ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।