সেলফিন: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর ডিজিটাল আর্থিক প্ল্যাটফর্ম
বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল আর্থিক সেবার জগতে সেলফিন একটি পরিচিত নাম। এটি মূলত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (IBBL)-এর একটি সর্বাঙ্গীণ ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্ল্যাটফর্ম, যা ২০২০ সালের নভেম্বরে চালু হয়েছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ওয়ালেট এবং ব্যাংকিং ইন্টারফেস হিসেবে কাজ করে, যা গ্রাহকদের জন্য হিসাব খোলা, তহবিল স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, রেমিটেন্স গ্রহণ এবং আরও অনেক কিছু সহজ করে তোলে। উল্লেখ্য, সেলফিন নিজে কোনো স্বতন্ত্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি ইসলামী ব্যাংকের বিদ্যমান শরীয়াহ-সম্মত ঋণ পণ্যগুলোতে ডিজিটাল উপায়ে প্রবেশাধিকারের সুযোগ করে দেয়।
প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি ও পটভূমি
- আইনি সত্তা ও নিবন্ধন: সেলফিন-এর মূল প্রতিষ্ঠান হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এটি ১৯৮৩ সালের ১৩ই মার্চ কোম্পানি আইন ১৯১৩ এর অধীনে একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত। ব্যাংকটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE) উভয়টিতেই তালিকাভুক্ত।
- প্রতিষ্ঠার বছর ও মালিকানা: মূল ব্যাংকটি ১৯৮৩ সালের ১৩ই মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর অনুমোদিত মূলধন ২০,০০০ মিলিয়ন টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন প্রায় ১৬,০৯৯.৯১ মিলিয়ন টাকা (২০১৯ সালের ডিসেম্বর অনুযায়ী)। এর শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোতে ৬৩.০৯% বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং ৩৩,৬৮৬ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছে (২০১৯ সালের ডিসেম্বর অনুযায়ী)।
- মূল প্রতিষ্ঠান ও মালিকানার কাঠামো: সেলফিন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর একটি ডিজিটাল পরিষেবা শাখা; এর কোনো স্বতন্ত্র আইনি সাবসিডিয়ারি নেই।
- ব্যবসা মডেল ও লক্ষ্য বাজার: এটি একটি ফ্রিমিয়াম ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপ। এর লক্ষ্য হল দ্রুত, কাগজবিহীন ব্যাংকিং সেবা পেতে ইচ্ছুক খুচরা গ্রাহক (হিসাবধারী এবং অ-হিসাবধারী উভয়ই)। এটি ই-কেওয়াইসি এবং ভার্চুয়াল কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারী এবং ২৬টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী উভয়কেই সেবা প্রদান করে।
- মূল নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা: ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান: মোহাম্মদ আফজাল উদ্দিন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও: মোঃ আবুল কালাম আজাদ। চিফ ডিজিটাল অফিসার (সেলফিন স্পন্সর): জনাব মাহবুবুর রহমান।
সেলফিনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের শরীয়াহ-সম্মত ঋণ ও আর্থিক সেবা
সেলফিন নিজে সরাসরি ঋণ প্রদান না করলেও, এটি ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শরীয়াহ-সম্মত ঋণ পণ্য ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়। গ্রাহকরা সেলফিন অ্যাপের মাধ্যমে এই ঋণগুলোর তথ্য জানতে এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। নিচে কয়েকটি প্রধান ঋণ পণ্যের বিবরণ দেওয়া হলো:
ইসলামী ব্যাংকের প্রধান ঋণ পণ্যসমূহ (সেলফিনের মাধ্যমে উপলব্ধ)
-
গৃহ নির্মাণ অর্থায়ন (মুরাবাহা):
- ঋণের পরিমাণ: সর্বনিম্ন ১,০০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন টাকা পর্যন্ত। (আনুমানিক ১,০০০ থেকে ২,০০,০০০ মার্কিন ডলার)
- মুনাফার হার (বার্ষিক): ৭.০০% থেকে ৯.৫০% পর্যন্ত।
- মেয়াদ ও পরিশোধ: সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা।
- ফি ও জামানত: অর্থায়িত অর্থের ১% প্রসেসিং ফি প্রযোজ্য। সম্পত্তির বন্ধক (মর্টগেজ) প্রয়োজন।
-
গাড়ি অর্থায়ন (ইজারা):
- ঋণের পরিমাণ: সর্বনিম্ন ২,০০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন টাকা পর্যন্ত। (আনুমানিক ২,০০০ থেকে ৫০,০০০ মার্কিন ডলার)
- মুনাফার হার (বার্ষিক): ৯.০০% থেকে ১২.০০% পর্যন্ত।
- মেয়াদ ও পরিশোধ: সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা।
- ফি ও জামানত: ০.৫% প্রসেসিং ফি প্রযোজ্য। গাড়িকে জামানত হিসেবে রাখা প্রয়োজন।
-
ভোগ্যপণ্য অর্থায়ন (মুরাবাহা):
- ঋণের পরিমাণ: সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত। (আনুমানিক ১০০ থেকে ৫,০০০ মার্কিন ডলার)
- মুনাফার হার (বার্ষিক): ১০.০০% থেকে ১৪.০০% পর্যন্ত।
- মেয়াদ ও পরিশোধ: সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা।
- ফি ও জামানত: ১% প্রসেসিং ফি প্রযোজ্য। অর্থায়িত পণ্যটিই জামানত হিসেবে বিবেচিত হয়।
-
ক্ষুদ্র ব্যবসা অর্থায়ন:
- ঋণের পরিমাণ: সর্বনিম্ন ৫০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ মিলিয়ন টাকা পর্যন্ত। (আনুমানিক ৫০০ থেকে ৩০,০০০ মার্কিন ডলার)
- মুনাফার হার (বার্ষিক): ৮.৫০% থেকে ১২.৫০% পর্যন্ত।
- মেয়াদ ও পরিশোধ: সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা।
- ফি ও জামানত: ১% প্রসেসিং ফি প্রযোজ্য। ব্যবসার সম্পদ অথবা তৃতীয় পক্ষের গ্যারান্টি জামানত হিসেবে প্রয়োজন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরে উল্লিখিত মার্কিন ডলারের পরিমাণ আনুমানিক (১০০ টাকা = ১ মার্কিন ডলার ধরে)। গ্রাহক ভেদে এবং ক্রেডিট মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকৃত বার্ষিক মুনাফার হার পরিবর্তিত হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বকেয়া কিস্তির উপর মাসিক ২% বিলম্ব ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
আবেদন প্রক্রিয়া, মোবাইল অ্যাপ ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা
সেলফিন ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের ঋণ এবং অন্যান্য আর্থিক সেবা গ্রহণ করা বেশ সহজ এবং ডিজিটাল।
গ্রাহক অনবোর্ডিং ও আবেদন প্রক্রিয়া
- আবেদন চ্যানেল: সেলফিন অ্যাপ আইওএস (অ্যাপ স্টোর) এবং অ্যান্ড্রয়েড (গুগল প্লে) উভয় প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ। এছাড়াও ওয়েব পোর্টাল এবং ইসলামী ব্যাংকের শাখা ও এজেন্ট পয়েন্টের মাধ্যমেও সেবা গ্রহণ করা যায়।
- ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া:
- অ্যাপের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) আপলোড করতে হয়।
- সেলফি এবং লাইভ লাইভনেস চেক সম্পন্ন করতে হয়।
- জাতীয় পরিচয়পত্র ডেটাবেসের সাথে স্বয়ংক্রিয় যাচাইকরণ করা হয়।
- দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় ব্যবহারকারীর জন্য কয়েক মিনিটের মধ্যে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হয়ে যায়।
- ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ অনুমোদন: সেলফিন বাংলাদেশের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (CIB)-এর সাথে নিজস্ব ডিজিটাল ক্রেডিট ব্যুরো ইন্টিগ্রেশন ব্যবহার করে। মোবাইল ব্যবহার এবং ই-কমার্স ইতিহাসের মতো বিকল্প ডেটা বর্তমানে পাইলট পর্যায়ে রয়েছে। ওয়ালেট সীমার জন্য তাত্ক্ষণিক অনুমোদন থাকলেও, উচ্চ মূল্যের ঋণ পণ্যের জন্য ম্যানুয়াল পর্যালোচনা করা হয়।
- বিতরণ ও সংগ্রহ: ঋণের অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, সেলফিন ওয়ালেটে ক্রেডিট, মোবাইল মানি (যেমন বিকাশ, নগদ) অথবা ক্যাশ-বাই-কোড এর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। কিস্তি সংগ্রহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিঙ্ক করা ইসলামী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ডেবিট, মোবাইল মানি কালেকশন, এসএমএস অনুস্মারক এবং বকেয়া ক্ষেত্রে ফিল্ড রিকভারির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
মোবাইল অ্যাপের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা
সেলফিন অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি মসৃণ এবং কার্যকরী অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্য রাখে।
- অ্যাপের বিবরণ: অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটির জন্য ৬.০+ সংস্করণ প্রয়োজন এবং এর আকার প্রায় ৪৫ এমবি। গুগল প্লে স্টোরে এর রেটিং ৩.৪ এবং অ্যাপ স্টোরে রেটিং ৩.৭ (৪ হাজারেরও বেশি রিভিউ সহ)। অগাস্ট ২০২৫ অনুযায়ী, এর সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন।
- মূল বৈশিষ্ট্য: সেলফিন অ্যাপের মাধ্যমে ভার্চুয়াল ভিসা/মাস্টারকার্ড, কিউআর পেমেন্ট, ক্রস-বর্ডার রেমিটেন্স, বিল পেমেন্ট, চেক বুকের অনুরোধ এবং অ্যাপের মধ্যেই অভিযোগ দায়ের করার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা পাওয়া যায়।
- ভৌগোলিক কভারেজ: ইসলামী ব্যাংকের ৪৫০টিরও বেশি শাখা এবং ৪,০০০টিরও বেশি এজেন্ট আউটলেট সারা দেশে ক্যাশ-ইন/আউট সুবিধার জন্য উপলব্ধ। আন্তর্জাতিকভাবে ২৬টি দেশে প্রবাসীদের অনবোর্ডিং সমর্থন করে।
- গ্রাহক বেস: সেলফিন অ্যাপের ডাউনলোড সংখ্যা ৩.৪ মিলিয়ন, নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২.৭ মিলিয়ন (মার্চ ২০২৫)। ২০২৫ সালে সেলফিনের মাধ্যমে প্রায় ৯৬১,০০০ নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তরুণ (১৮-৩৫ বছর) এবং প্রবাসীদের মধ্যে এর গ্রহণ যোগ্যতা অনেক বেশি, বিশেষ করে শহুরে এলাকায় এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়।
- গ্রাহক অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ: গুগল প্লে স্টোরে ৩.৪ এবং অ্যাপ স্টোরে ৩.৭ রেটিং থাকলেও, কিছু সাধারণ অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে ওটিপি (OTP) ডেলিভারি সমস্যা, মাঝে মাঝে লেনদেন ব্যর্থতা এবং সীমিত বেনিফিশিয়ারি ম্যানেজমেন্ট উল্লেখযোগ্য। তবে, সেলফিন ২৪/৭ কল সেন্টার, ইন-অ্যাপ চ্যাট সাপোর্ট এবং অভিযোগ সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট সময় (৭২ ঘণ্টা) সহ উন্নত সেবা প্রদানের চেষ্টা করে।
নিয়ন্ত্রক অবস্থা, বাজার অবস্থান এবং সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ
সেলফিন এবং এর মূল প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়, যা গ্রাহকদের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
নিয়ন্ত্রক অবস্থা ও লাইসেন্সিং
- লাইসেন্সিং: সেলফিন বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS) প্রবিধানের অধীনে পরিচালিত হয়। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং লাইসেন্স ধারণ করে।
- নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধান: বাংলাদেশ ব্যাংক এএমএল/সিএফটি (AML/CFT) বিভাগ নিয়মিত তত্ত্বাবধান করে। এছাড়াও, বাহ্যিক নিরীক্ষক এবং শরীয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড দ্বারা পর্যায়ক্রমিক নিরীক্ষা করা হয়।
- সম্মতি পরিমাপ: লেনদেন পর্যবেক্ষণ, দৈনিক সতর্কতার সীমা নির্ধারণ, পিইপি (PEP)/স্যাঙ্কশন স্ক্রিনিং, ডেটা এনক্রিপশন (TLS 1.2+), এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি নির্দেশিকা অনুযায়ী সুরক্ষিত ডেটা স্টোরেজ এর মতো সম্মতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- গ্রাহক সুরক্ষা: অ্যাপের মধ্যেই বিরোধ নিষ্পত্তির টিকিট ব্যবস্থা রয়েছে, যার জন্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান প্রদানের একটি সেবা স্তর চুক্তি (SLA) রয়েছে। স্বচ্ছ ফি প্রকাশ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি (ODR) পোর্টাল ইন্টিগ্রেশন গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
বাজার অবস্থান ও প্রতিযোগিতা
- বাজার শেয়ার: সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে সেলফিন বাংলাদেশের শীর্ষ ৩টি ডিজিটাল ওয়ালেটের মধ্যে অন্যতম।
- মূল প্রতিযোগী: দেশের প্রধান প্রতিযোগীরা হলো বিকাশ, নগদ, রকেট (ডাচ-বাংলা ব্যাংক) এবং উপায়।
- পার্থক্য: সেলফিন তার পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক ইন্টিগ্রেশন, শরীয়াহ-সম্মত অফার, ভার্চুয়াল প্রি-পেইড কার্ড এবং ক্রস-বর্ডার রেমিটেন্স পিনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে আলাদা করে।
- বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ: ভবিষ্যতে ফিনটেক পে-লেটার প্রদানকারীদের সাথে চুক্তি এবং মার্চেন্ট কিউআর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে এআই-চালিত ক্রেডিট স্কোরিং পাইলট শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
- অংশীদারিত্ব: ভিসা, মাস্টারকার্ড, বাংলাদেশ পোস্ট এবং টেলিকম অপারেটরদের (গ্রামীণফোন, রবি) সাথে সেলফিনের অংশীদারিত্ব রয়েছে।
সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ
সেলফিনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের ঋণ সুবিধা গ্রহণ করার আগে কিছু ব্যবহারিক বিষয় বিবেচনা করা উচিত:
- শরীয়াহ নীতিমালা বুঝুন: যেহেতু এটি একটি শরীয়াহ-সম্মত আর্থিক প্ল্যাটফর্ম, তাই ঋণের কাঠামো (যেমন মুরাবাহা, ইজারা) এবং এর অন্তর্নিহিত নীতিমালা ভালোভাবে বুঝে নিন।
- আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করুন: ঋণ গ্রহণের পূর্বে আপনার পরিশোধের সক্ষমতা ভালোভাবে মূল্যায়ন করুন। মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তি আপনার আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিশ্চিত করুন।
- মুনাফার হার ও চার্জ যাচাই করুন: ঋণের মুনাফার হার (প্রফিট রেট) এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক চার্জ (যেমন প্রসেসিং ফি, বিলম্ব ফি) বিস্তারিতভাবে জেনে নিন। কোনো লুকানো চার্জ আছে কিনা, তা জিজ্ঞাসা করুন।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন: আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়ের উৎস সংক্রান্ত প্রমাণপত্র এবং জামানত সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন।
- অ্যাপের বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করুন: সেলফিন অ্যাপের মাধ্যমে ঋণের স্টেটমেন্ট দেখা, কিস্তি পরিশোধের রিমাইন্ডার সেট করা এবং প্রয়োজনে কাস্টমার সাপোর্টের সাথে যোগাযোগ করার মতো বৈশিষ্ট্যগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করুন।
- সন্দেহ নিরসন করুন: ঋণের শর্তাবলী, পরিশোধের সময়সূচী বা অন্য কোনো বিষয়ে আপনার মনে কোনো প্রশ্ন থাকলে, ইসলামী ব্যাংকের কাস্টমার সার্ভিস বা নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নিন।
- অন্যান্য শরীয়াহ-সম্মত বিকল্পের সাথে তুলনা: যদি সম্ভব হয়, অন্যান্য শরীয়াহ-সম্মত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুরূপ ঋণ পণ্যের সাথে সেলফিনের মাধ্যমে প্রাপ্ত ইসলামী ব্যাংকের ঋণ সুবিধার তুলনা করে আপনার জন্য সেরা বিকল্পটি বেছে নিন।
সেলফিন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা ইসলামী ব্যাংকের ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকিং সেবাকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা কেবল অর্থ লেনদেনই নয়, বরং শরীয়াহ-সম্মত উপায়ে বিভিন্ন ঋণ সুবিধার ডিজিটাল অ্যাক্সেস পেয়ে থাকেন, যা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও বেগবান করছে।