কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেট: 10.00%
menu

City Bank

বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। এই প্রেক্ষাপটে, সিটি ব্যাংক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি) তার উদ্ভাবনী সেবা এবং বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে। একটি আর্থিক বিশ্লেষক হিসেবে, আমরা বাংলাদেশের স্থানীয় গ্রাহকদের জন্য সিটি ব্যাংকের বিভিন্ন ঋণ পণ্য, পরিষেবা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি বিশদ পর্যালোচনা উপস্থাপন করছি।

সিটি ব্যাংক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি: একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

সিটি ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলির মধ্যে অন্যতম। এটি ১৯৮৩ সালের ২৮ মার্চ ১২ জন স্থানীয় উদ্যোক্তা দ্বারা "দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড" নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে এটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে কোম্পানি আইন এবং ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধিত। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এটি 'সিটিব্যাংক' কোড ব্যবহার করে লেনদেন হয়। প্রতিষ্ঠার সময় এর প্রাথমিক মূলধন ছিল ৩৪ মিলিয়ন টাকা, যা বর্তমানে ৩.৩ বিলিয়ন টাকা পরিশোধিত মূলধন এবং সংরক্ষিত তহবিলে পরিণত হয়েছে। ২০১৬ সালে, আন্তর্জাতিক অর্থ কর্পোরেশন (আইএফসি) ১.৩১ বিলিয়ন টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটির ৫% শেয়ারের মালিক হয়।

মালিকানা এবং ব্যবসায়িক মডেল

সিটি ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোতে প্রতিষ্ঠাতা পরিবার ও ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত উদ্যোক্তা পরিচালকবৃন্দ, আইএফসি ও সিডিসি গ্রুপ সহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা অন্তর্ভুক্ত। ব্যাংকটি একটি সার্বজনীন ব্যাংকিং মডেল অনুসরণ করে, যার অর্থ হল এটি খুচরা ব্যাংকিং (আমানত, ভোক্তা ঋণ, কার্ড), ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) এবং কৃষি অর্থায়ন, কর্পোরেট ও বিনিয়োগ ব্যাংকিং, ডিজিটাল ব্যাংকিং (সিটিটাচ, সিটি এখনি) এবং ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট (সিটিজেম, স্যাফায়ার) সহ বিস্তৃত পরিসরের আর্থিক সেবা প্রদান করে। তাদের লক্ষ্য গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছেন বেতনভুক্ত পেশাদার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, উচ্চ-নেট-মূল্যের ব্যক্তি এবং বাণিজ্য অর্থায়ন, ট্রেজারি পণ্য ও পুঁজিবাজার পরিষেবা খুঁজছেন এমন কর্পোরেট ক্লায়েন্টরা।

প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা

ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন আজিজ আল কায়সার, এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হলেন মাশরুর আরেফিন। অর্থ, ঝুঁকি, প্রযুক্তি এবং কার্যক্রম সহ বিভিন্ন বিভাগগুলি প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও), প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা, ডিজিটাল প্রধান এবং খুচরা ব্যাংকিং প্রধান সহ অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

সিটি ব্যাংকের ঋণ পণ্য এবং আর্থিক সেবাসমূহ

সিটি ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিও খুচরা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, কর্পোরেট এবং বিশেষায়িত অর্থায়ন জুড়ে বিস্তৃত। নিচে কিছু প্রধান ঋণ পণ্যের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:

  • ব্যক্তিগত ঋণ:
    • পরিমাণ: ৫০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০ টাকা
    • মেয়াদ: ১২ থেকে ৬০ মাস
    • সুদের হার (বার্ষিক): ১৮.০%
    • প্রক্রিয়াকরণ ফি: ঋণের পরিমাণের ১.০%
    • জামানত: প্রয়োজন নেই (জামানতবিহীন)
  • গাড়ি ঋণ:
    • পরিমাণ: ৩,০০,০০০ থেকে ২০,০০,০০০ টাকা
    • মেয়াদ: ১২ থেকে ৬০ মাস
    • সুদের হার (বার্ষিক): ১৬.০%
    • প্রক্রিয়াকরণ ফি: ঋণের পরিমাণের ১.০%
    • জামানত: ফিক্সড ডিপোজিট বা অনুমোদিত বন্ড
  • গৃহ ঋণ:
    • পরিমাণ: ৩,০০,০০০ থেকে ১,০০,০০,০০০ টাকা
    • মেয়াদ: ১২ থেকে ১৫ বছর
    • সুদের হার (বার্ষিক): ১৬.৫%
    • প্রক্রিয়াকরণ ফি: ঋণের পরিমাণের ১.৫-২.০%
    • জামানত: সম্পত্তির বন্ধক
  • শিক্ষা ঋণ:
    • পরিমাণ: ৫০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০ টাকা
    • মেয়াদ: ১২ থেকে ৬০ মাস
    • সুদের হার (বার্ষিক): ১৮.০% (জামানতবিহীন), ফিক্সড ডিপোজিট হার + ৩% (জামানতযুক্ত)
    • প্রক্রিয়াকরণ ফি: ১.৫% (জামানতবিহীন), জামানতযুক্তের জন্য স্তরভিত্তিক
    • জামানত: ফিক্সড ডিপোজিট (সিটি ব্যাংক)
  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) ছোট ঋণ:
    • পরিমাণ: ৩,০০,০০০ থেকে ২৫,০০,০০০ টাকা (জামানতবিহীন), ১,০০,০০,০০ থেকে ১,০০,০০,০০০ টাকা (জামানতযুক্ত)
    • মেয়াদ: ১২ থেকে ৩৬ মাস (জামানতবিহীন), ১২ থেকে ৬০ মাস (জামানতযুক্ত)
    • সুদের হার (বার্ষিক): বাজার-সংযুক্ত (ফিক্সড ডিপোজিট হার + ৩-৫%) (জামানতযুক্ত)
    • প্রক্রিয়াকরণ ফি: কোনো প্রক্রিয়াকরণ ফি নেই
    • জামানত: নিবন্ধিত বন্ধক (জামানতযুক্তের জন্য)

ফি কাঠামো এবং বার্ষিক শতাংশ হার (এপিআর)

সিটি ব্যাংকের বিভিন্ন ঋণ পণ্যের জন্য প্রক্রিয়াকরণ ফি ঋণের পরিমাণের ০.৫% থেকে ২.০% পর্যন্ত হয়ে থাকে। দেরিতে পরিশোধের ক্ষেত্রে বকেয়া পরিমাণের উপর প্রতি মাসে ২% পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হতে পারে। মেয়াদপূর্তির পূর্বে ঋণ পরিশোধ বা বন্ধক মুক্তির জন্য বকেয়া মূলধনের উপর ১% পর্যন্ত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে, তবে এটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পূরণের পরেই সম্ভব।

জামানত ও নিরাপত্তা

কিছু ঋণ, যেমন ব্যক্তিগত ঋণ এবং সিটি স্কলার শিক্ষা ঋণ (১০ লাখ টাকা পর্যন্ত), জামানতবিহীন। অন্যান্য ঋণ যেমন গৃহ ঋণ, গাড়ি ঋণ এবং জামানতযুক্ত এসএমই ঋণের জন্য সম্পত্তির বন্ধক, ফিক্সড ডিপোজিট, অনুমোদিত বিপণনযোগ্য সিকিউরিটিজ বা কর্পোরেট গ্যারান্টির মতো জামানত প্রয়োজন।

আবেদন প্রক্রিয়া, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা

সিটি ব্যাংক গ্রাহকদের সুবিধার জন্য একাধিক আবেদন পদ্ধতি চালু করেছে, যার মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আবেদন পদ্ধতি

  • মোবাইল অ্যাপ (সিটিটাচ): আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ 'সিটিটাচ' অ্যাপটির গড় রেটিং ৪.৬/৫.০। এর মাধ্যমে ঋণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার, তাৎক্ষণিক যোগ্যতা যাচাই, ই-কেওয়াইসি (গ্রাহক পরিচিতি যাচাই) এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঋণ বিতরণ সম্ভব।
  • অনলাইন পোর্টাল: সিটি ব্যাংকের ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমেও ঋণ আবেদনের জন্য যোগ্যতা যাচাই, নথি আপলোড এবং আবেদনের অগ্রগতি ট্র্যাক করা যায়।
  • শারীরিক শাখা: সারা বাংলাদেশে সিটি ব্যাংকের ১৬৪টি শাখা এবং ৪৭টি উপ-শাখা রয়েছে, যা দেশের আটটি বিভাগেই বিস্তৃত। গ্রাহকরা সরাসরি শাখায় গিয়েও আবেদন করতে পারেন।
  • সিটি এখনি কিয়স্ক: নির্বাচিত স্থানে স্থাপিত 'সিটি এখনি' কিয়স্কের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যক্তিগত ঋণ বিতরণ করা হয়।

কেওয়াইসি এবং গ্রাহক অন্তর্ভুক্তি

ডিজিটাল কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার মধ্যে মুখ যাচাই, নথি অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (ওসিআর) এবং বেতনভুক্ত ও স্ব-কর্মসংস্থানকারী খাতের জন্য ব্যাংক ভেরিফিকেশন নম্বর (বিভিএন) ইন্টিগ্রেশন অন্তর্ভুক্ত। শাখায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)/পাসপোর্ট, ইউটিলিটি বিল এবং আয়ের প্রমাণপত্র ম্যানুয়ালি যাচাই করা হয়।

ক্রেডিট স্কোরিং এবং বিতরণ

সিটি ব্যাংক ক্রেডিট ব্যুরো ডেটা (বাংলাদেশ ক্রেডিট ব্যুরো, ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো), ব্যাংক লেনদেনের ইতিহাস, সামাজিক প্রোফাইলিং এবং বিকল্প ডেটা (ই-কমার্স, মোবাইল ব্যবহার) একত্রিত করে নিজস্ব স্কোরিং মডেল ব্যবহার করে। খুচরা ঋণের জন্য স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়, আর জটিল এসএমই এবং কর্পোরেট ঋণের জন্য ক্রেডিট কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ঋণ বিতরণের পদ্ধতিগুলির মধ্যে রয়েছে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর (সিটিটাচ), মোবাইল আর্থিক সেবা (যেমন বিকাশ, রকেট) এবং শাখা ও অংশীদার মোবাইল মানি এজেন্টদের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন।

প্রযুক্তি এবং পরিধি

সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল উপস্থিতি বেশ শক্তিশালী। 'সিটিটাচ' অ্যাপটি ইনস্ট্যান্ট ঋণ যোগ্যতা, ই-স্বাক্ষর, বায়োমেট্রিক লগইন এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার মতো বৈশিষ্ট্যগুলি প্রদান করে। 'সিটি এখনি' কিয়স্কগুলি শাখায় দ্রুত ঋণ সেবা নিশ্চিত করে। তাদের প্রতিক্রিয়াশীল ওয়েব পোর্টাল, সক্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল, অনলাইন চ্যাট এবং চ্যাটবট সহায়তা গ্রাহকদের জন্য ২৪x৭ সেবা নিশ্চিত করে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ের তথ্য অনুযায়ী, সিটি ব্যাংকের সারা দেশে ১৬৪টি শাখা, ৪৭টি উপ-শাখা, ৩৩৬টি স্বয়ংক্রিয় টেলার মেশিন (এটিএম) এবং ৭৮৬টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) কেন্দ্র রয়েছে। ব্যাংকটির ১.২ মিলিয়নেরও বেশি সক্রিয় খুচরা গ্রাহক এবং ৩৫,০০০ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ রয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারকারীদের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫,০০,০০০ এর বেশি।

গ্রাহক পর্যালোচনা এবং বাজারের অবস্থান

গ্রাহক পর্যালোচনা প্ল্যাটফর্মগুলিতে সিটিটাচ অ্যাপের গড় রেটিং গুগল প্লে স্টোরে ৪.২ এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে ৪.৫। ডিজিটাল ঋণের গতি এবং ইউজার ইন্টারফেসের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। তবে, মাঝে মাঝে নথি যাচাইয়ে বিলম্ব এবং পিক আওয়ারে সেবা বিঘ্নিত হওয়ার মতো কিছু সাধারণ সমস্যাও পরিলক্ষিত হয়। সিটি ব্যাংক ২৪x৭ কল সেন্টার, লাইভ চ্যাট সহায়তা এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে সক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের প্রশ্নের উত্তর দেয়, যার গড় প্রতিক্রিয়া সময় ২ মিনিটেরও কম। সিটি এসএমই ছোট ঋণের মাধ্যমে ১০,০০০-এর বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন করা হয়েছে, যাদের মধ্যে এক বছরের মধ্যে গড় রাজস্ব ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

গ্রাহক সেবা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি

গ্রাহক সুরক্ষার জন্য সিটি ব্যাংকের স্বচ্ছ ফি কাঠামো রয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য তাদের 'সিটিকিউ' পোর্টাল এবং একটি ডেডিকেটেড গ্রাহক অ্যাডভোকেট সেবা রয়েছে, যা গ্রাহকদের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।

নিয়ন্ত্রক কাঠামো, বাজার প্রতিযোগিতা এবং সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য পরামর্শ

আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং গ্রাহক সুরক্ষার জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়ন্ত্রক অবস্থা এবং লাইসেন্সিং

সিটি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা ব্যাংক কোম্পানি আইনের অধীনে নিয়ন্ত্রিত। এটি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকস-এর সদস্য। ব্যাংকটি ব্যাসেল থ্রি মূলধন পর্যাপ্ততা, অর্থ পাচার প্রতিরোধ (এএমএল) এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন দমন (সিএফটি) মানদণ্ড সম্পূর্ণরূপে মেনে চলে। গত পাঁচ বছরে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে কোনো বড় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা বা জরিমানা আরোপ করা হয়নি। কেওয়াইসি প্রক্রিয়াকরণের সময় সংক্রান্ত কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল, যা ডিজিটাল কেওয়াইসি চালুর মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।

বাজার অবস্থান এবং প্রতিযোগিতা

সম্পদ আকারের দিক থেকে সিটি ব্যাংক বাংলাদেশের শীর্ষ-১০ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে একটি। ২০২২ সালে এর মোট সম্পদ ছিল ৫০৬.৮৪ বিলিয়ন টাকা। আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ডের লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এটি প্রথম ব্যাংক ছিল। ২০২৪ সালের পর অফশোর ব্যাংকিং আমানত সংগ্রহে এটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সিটিটাচ এবং সিটি এখনি-এর মাধ্যমে ডিজিটাল-ফার্স্ট কৌশল গ্রহণ করে ব্যাংকটি বাজারে নিজেকে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এর প্রধান প্রতিযোগীদের মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাংকটির সম্পদের যৌগিক বার্ষিক বৃদ্ধির হার (সিএজিআর) ছিল ১২% এবং আমানতের ক্ষেত্রে ১৫%। বিকাশ (মোবাইল আর্থিক সেবা), মাস্টারকার্ড, ভিসা এবং আমেরিকান এক্সপ্রেসের সাথে এর কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। এছাড়াও, ইউএনডিপি এবং আইএফসি-এর সাথে এসএমই ঋণ অংশীদারিত্ব ব্যাংকটির ব্যবসায়িক পরিধি আরও বাড়িয়েছে।

সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য বাস্তবসম্মত পরামর্শ

সিটি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার কথা ভাবলে কিছু বিষয় বিবেচনা করা উচিত:

  • ঋণের প্রকারভেদ বোঝা: আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ঋণ পণ্যটি বেছে নিন। ব্যক্তিগত, গাড়ি, গৃহ, শিক্ষা বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ ঋণের বৈশিষ্ট্যগুলি ভালোভাবে বুঝে নিন।
  • সুদের হার এবং ফি তুলনা: বিভিন্ন ঋণের সুদের হার, প্রক্রিয়াকরণ ফি, দেরিতে পরিশোধের জরিমানা এবং মেয়াদপূর্তির পূর্বে পরিশোধের শর্তাবলী ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।
  • মেয়াদ বিবেচনা: ঋণের মেয়াদ আপনার পরিশোধ ক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিশ্চিত করুন। দীর্ঘ মেয়াদে কিস্তির পরিমাণ কম হলেও মোট সুদের পরিমাণ বেশি হয়।
  • ডিজিটাল অ্যাপের ব্যবহার: সিটিটাচ অ্যাপ ব্যবহার করে আপনার ঋণের যোগ্যতা যাচাই করুন, আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন এবং ঋণের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকুন। এটি সময় বাঁচাতে সাহায্য করবে।
  • নথি প্রস্তুতি: আবেদন করার পূর্বে প্রয়োজনীয় সকল নথি যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র, আয়ের প্রমাণ, ইউটিলিটি বিল ইত্যাদি প্রস্তুত রাখুন। ডিজিটাল কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সহজ হলেও, সঠিক নথি দ্রুত ঋণ অনুমোদনে সহায়ক।
  • ক্রেডিট স্কোর বজায় রাখা: ভালো ক্রেডিট স্কোর ঋণের অনুমোদন সহজ করে এবং সুদের হার কমাতেও সহায়ক হতে পারে। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আপনার ক্রেডিট স্কোর ভালো রাখুন।
  • জরুরি অবস্থার জন্য পরিকল্পনা: ঋণ গ্রহণের পূর্বে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্য একটি আর্থিক পরিকল্পনা রাখুন, যাতে কোনো কারণে কিস্তি পরিশোধে সমস্যা না হয়।

সিটি ব্যাংক পিএলসি ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকিং শক্তি, দৃঢ় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং দূরদর্শী ডিজিটাল উদ্যোগের সমন্বয়ে বাংলাদেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল আর্থিক খাতে একটি স্থিতিশীল নেতৃত্ব অবস্থানে রয়েছে। পণ্য, প্রক্রিয়া এবং অংশীদারিত্বে ধারাবাহিক উদ্ভাবন আগামী বছরগুলিতে এর বৃদ্ধির গতিপথকে আরও চালিত করবে।

কোম্পানির তথ্য
4.25/5
যাচাইকৃত বিশেষজ্ঞ
জেমস মিচেল

জেমস মিচেল

আন্তর্জাতিক অর্থ বিশেষজ্ঞ ও ক্রেডিট বিশ্লেষক

১৯৩টি দেশে লোন বাজার এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিশ্লেষণে ৮ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা। স্বাধীন গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞ নির্দেশনার মাধ্যমে গ্রাহকদের সুবিবেচিত আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করি।

3 দিন আগে যাচাইকৃত
১৯৩টি দেশ
১২,০০০+ রিভিউ