কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেট: 10.00%
menu

FinCash

ফিনক্যাশের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট

বিডি-ভ্যানশাইন টেকনোলজি প্রাইভেট লিমিটেড, যা সাধারণত ফিনক্যাশ নামে পরিচিত, বাংলাদেশের একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর সি-১৭৫৫৮৬/২০২১ (COI-No. C-175596/2021) এর অধীনে নিবন্ধিত। ফিনক্যাশ মূলত বেতনভোগী ব্যক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে অসুরক্ষিত, স্বল্পমেয়াদী ঋণ সরবরাহ করে। এর সদর দপ্তর ঢাকার লা-৬৫, মধ্য বাড্ডা, বাড্ডা, ঢাকা-১২১২ ঠিকানায় অবস্থিত।

ফিনক্যাশের ব্যবসায়িক মডেল সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল এবং এটি একটি পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) স্টাইলের ক্ষুদ্রঋণ প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে। গ্রাহকরা তাদের অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস মোবাইল অ্যাপ এবং প্রোগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ (PWA) এর মাধ্যমে ঋণ পরিষেবা গ্রহণ করতে পারেন। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ায়, ফিনক্যাশ স্বচ্ছতা, গতি এবং নিয়ন্ত্রক সম্মতি বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মাধ্যমে শহুরে বেতনভোগী পেশাদার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং জরুরি আর্থিক তারল্য প্রয়োজন এমন ব্যক্তিরা উপকৃত হন।

ফিনক্যাশের ঋণ পণ্য ও পরিষেবা

ফিনক্যাশ বিভিন্ন ধরণের ডিজিটাল ঋণ পণ্য সরবরাহ করে যা গ্রাহকদের বিভিন্ন আর্থিক চাহিদা পূরণে সহায়ক। প্রতিষ্ঠানটি মূলত দুটি প্রধান ঋণ পণ্য অফার করে:

  • ব্যক্তিগত ঋণ: এই ঋণগুলি ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য অসুরক্ষিত ক্ষুদ্রঋণ হিসাবে দেওয়া হয়। এর সর্বনিম্ন ঋণের পরিমাণ ২,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই ঋণের মেয়াদ ৯০ থেকে ১২০ দিন পর্যন্ত হয়। দৈনিক সুদের হার ০.০৬% এবং বার্ষিক সর্বোচ্চ সুদের হার (APR) ২১.৯%। মূল ঋণের ১% উৎস ফি (Origination Fee) এবং প্রতি বিলম্বিত কিস্তির জন্য ২% বিলম্ব ফি প্রযোজ্য। এতে কোনো লুকানো চার্জ নেই।
  • ব্যবসায়িক ঋণ: ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (SME) জন্য কার্যনির্বাহী মূলধন হিসেবে এই ঋণ প্রদান করা হয়। সর্বনিম্ন ঋণের পরিমাণ ৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত। এই ঋণের মেয়াদ ৬০ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত হয়। দৈনিক সুদের হার ০.০৫% থেকে ০.০৭% পর্যন্ত হতে পারে এবং বার্ষিক সর্বোচ্চ সুদের হার (APR) ২৪%। মূল ঋণের ১.৫% প্রক্রিয়াকরণ ফি (Processing Fee), প্রতি বিলম্বিত কিস্তির জন্য ২% বিলম্ব ফি এবং প্রযোজ্য সরকারি স্ট্যাম্প ডিউটি ধার্য করা হয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, উভয় প্রকার ঋণের জন্যই কোনো জামানত বা গ্যারান্টরের প্রয়োজন হয় না, যা দ্রুত এবং সহজ ঋণ প্রাপ্তিতে সহায়ক।

আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয়তা এবং মোবাইল অ্যাপের অভিজ্ঞতা

আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয়তা

ফিনক্যাশের ঋণ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব। সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য এখানে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

  • আবেদন চ্যানেল: গ্রাহকরা ফিনক্যাশের অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস মোবাইল অ্যাপ অথবা ওয়েবসাইটের প্রোগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ (PWA) এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।
  • কেওয়াইসি (KYC) ও অনবোর্ডিং: আবেদন করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের ছবি আপলোড করতে হয়। মোবাইল নম্বর ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) এর মাধ্যমে যাচাই করা হয়।
  • স্বয়ংক্রিয় পর্যালোচনা: আপলোড করা ডেটা এনক্রিপশন এবং বায়োমেট্রিক চেকের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঋণের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
  • ক্রেডিট স্কোরিং: ফিনক্যাশ একটি নিজস্ব অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ক্রেডিট স্কোরিং করে। এতে মোবাইল-মানি লেনদেনের ইতিহাস, ফোন রেকর্ডের মেটাডেটা, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইকরণ, কর্মসংস্থানের তথ্য এবং তৃতীয় পক্ষের ক্রেডিট ব্যুরো স্কোর অন্তর্ভুক্ত থাকে।
  • অর্থ বিতরণ: ঋণ অনুমোদিত হলে অর্থ সরাসরি স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে, অথবা বিকাশ, নগদ এর মতো মোবাইল মানি অ্যাকাউন্টে বিতরণ করা হয়। সীমিত ক্ষেত্রে অংশীদার এমএফএস এজেন্টদের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলনের সুযোগও থাকে।

মোবাইল অ্যাপের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা

ফিনক্যাশের মোবাইল অ্যাপটি ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটির গুগল প্লে স্টোরে ৫০,০০০ এর বেশি ডাউনলোড এবং ৪.১ রেটিং রয়েছে। অ্যাপটি ঋণ আবেদন, ঋণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, পরিশোধের সময়সূচী নির্ধারণ এবং ডকুমেন্ট আপলোডের সুবিধা প্রদান করে। আইওএস ব্যবহারকারীদের জন্য প্রোগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপটি সাফারির জন্য অপ্টিমাইজ করা হয়েছে এবং অফলাইন ক্যাচিং সমর্থন করে। ফিনক্যাশের ওয়েবসাইট (fincashbd.com) এও ঋণের সম্পূর্ণ জীবনচক্রের কাজ করা যায় এবং এটি এসএসএল (SSL) এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত।

গ্রাহক পর্যালোচনায় অ্যাপের দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছ ফি কাঠামোর প্রশংসা করা হয়েছে। তবে, কিছু ব্যবহারকারী মাঝে মাঝে অ্যাপ ক্র্যাশ করা এবং গ্রাহক পরিষেবাতে বিলম্বের অভিযোগ করেছেন। ফিনক্যাশ ইমেল ([email protected]) এর মাধ্যমে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এবং ইন-অ্যাপ চ্যাটের মাধ্যমে ২ ঘন্টার মধ্যে সাড়া দেওয়ার দাবি করে। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং খুলনাসহ দেশের আটটি বিভাগেই পরিষেবা প্রদান করে থাকে।

নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, বাজার অবস্থান ও সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য পরামর্শ

নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও গ্রাহক সুরক্ষা

ফিনক্যাশ মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) এর সাথে একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান (MFI) হিসাবে নিবন্ধিত এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সুদের হার ও রিপোর্টিং এর নিয়মাবলী মেনে চলে। সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত, ফিনক্যাশের বিরুদ্ধে কোনো সরকারি জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার খবর পাওয়া যায়নি। এর কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়।

গ্রাহক সুরক্ষার জন্য, ফিনক্যাশ অ্যাপের মধ্যে ফি এর সম্পূর্ণ বিবরণ স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করে। এটি বাংলাদেশের ডেটা সুরক্ষা আইনের খসড়া নির্দেশিকা মেনে ডেটা গোপনীয়তা বজায় রাখে। ইন-অ্যাপ চ্যাট এবং ইমেলের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও রয়েছে, যা গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করে।

বাজারে ফিনক্যাশের অবস্থান ও প্রতিযোগিতা

বাংলাদেশের অর্থায়ন অ্যাপগুলির মধ্যে ফিনক্যাশ শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে। বিকাশ লোন, নগদ লোন, রকেট লোন এবং ফ্লেক্সিক্যাশ এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলি এর প্রধান প্রতিযোগী। ফিনক্যাশ তার সম্পূর্ণ ডিজিটাল অনবোর্ডিং, রিয়েল-টাইম স্বচ্ছতা, ডেটা সুরক্ষার জন্য মিলিটারি-গ্রেড এনক্রিপশন এবং কাগজবিহীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেকে আলাদা করেছে। এটি অনুমান করা হয় যে, ফিনক্যাশ এর বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ বার্ষিক প্রায় ১৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (SME) ঋণ খাত প্রসারিত করার এবং দীর্ঘমেয়াদী ভোক্তা ঋণ চালু করার পরিকল্পনা করছে। অর্থ বিতরণ এবং ক্রেডিট স্কোরিং ডেটার জন্য এটি বিকাশ, নগদ এবং স্থানীয় ব্যাংকগুলির সাথে অংশীদারিত্ব করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক ৩০,০০০ সক্রিয় ঋণগ্রহীতা রয়েছে (মধ্য-২০২৫ এর অনুমান), যাদের ৬৫% এর বয়স ২৫-৪০ বছরের মধ্যে এবং ৭০% শহুরে এলাকার বাসিন্দা।

সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ

ফিনক্যাশ থেকে ঋণ নেওয়ার আগে কিছু বিষয় বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • শর্তাবলী ভালোভাবে বুঝুন: ঋণের শর্তাবলী, সুদের হার, ফি এবং পরিশোধের সময়সূচী সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত হন। বিশেষ করে উৎস ফি, প্রক্রিয়াকরণ ফি এবং বিলম্ব ফি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন।
  • পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করুন: আপনার মাসিক আয় এবং ব্যয়ের সাথে ঋণের কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা ভালোভাবে মূল্যায়ন করুন। সময়মতো কিস্তি পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত বিলম্ব ফি এবং ক্রেডিট স্কোরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
  • অন্যান্য বিকল্পের সাথে তুলনা: ফিনক্যাশের অফারগুলি অন্যান্য ডিজিটাল ঋণ প্রদানকারী বা ঐতিহ্যবাহী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা করে দেখুন। আপনার জন্য কোনটি সবচেয়ে সুবিধাজনক এবং সাশ্রয়ী, তা নির্ধারণ করুন।
  • অ্যাপের ব্যবহার: ঋণের আবেদন থেকে শুরু করে পরিশোধ পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া অ্যাপের মাধ্যমে হয়, তাই অ্যাপের কার্যকারিতা এবং আপনার স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে তাদের গ্রাহক সহায়তার সাড়া দেওয়ার সময় সম্পর্কে অবগত থাকুন।
  • গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা: ফিনক্যাশ ডেটা সুরক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও, অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বদা সতর্ক থাকুন এবং নির্ভরযোগ্য উৎসের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই করুন।

সংক্ষেপে, ফিনক্যাশ বাংলাদেশে দ্রুত এবং সুবিধাজনক ডিজিটাল ঋণ পরিষেবা প্রদান করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে, যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন সচেতন ঋণগ্রহীতা হিসেবে সমস্ত দিক বিবেচনা করা অপরিহার্য।

কোম্পানির তথ্য
4.31/5
যাচাইকৃত বিশেষজ্ঞ
জেমস মিচেল

জেমস মিচেল

আন্তর্জাতিক অর্থ বিশেষজ্ঞ ও ক্রেডিট বিশ্লেষক

১৯৩টি দেশে লোন বাজার এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিশ্লেষণে ৮ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা। স্বাধীন গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞ নির্দেশনার মাধ্যমে গ্রাহকদের সুবিবেচিত আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করি।

3 দিন আগে যাচাইকৃত
১৯৩টি দেশ
১২,০০০+ রিভিউ