কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেট: 10.00%
menu

Rocket Personal Loan

বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে 'রকেট' একটি সুপরিচিত নাম। তবে 'রকেট ব্যক্তিগত ঋণ' সম্পর্কে মানুষের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। একটি সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিগত ঋণ পণ্য হিসেবে 'রকেট ব্যক্তিগত ঋণ' বলে কিছু নেই। বরং, রকেট হলো ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল)-এর একটি মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্ল্যাটফর্ম, যা সরাসরি ঋণ সুবিধা প্রদান করে না। ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ঋণের জন্য গ্রাহকদের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের প্রচলিত ব্যাংকিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। এই নিবন্ধে আমরা রকেট এমএফএস এবং এর মাধ্যমে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ঋণ সেবার বিস্তারিত বিশ্লেষণ করব, যাতে সম্ভাব্য গ্রাহকরা একটি স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে আগ্রহীরা সঠিক পথে আবেদন করতে পারেন।

রকেট: একটি বিস্তৃত পরিচিতি ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এমএফএস ভূমিকা

রকেট কোনো স্বতন্ত্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, এটি ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) শাখা। ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল) বাংলাদেশের একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বাণিজ্যিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

কোম্পানির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট

  • প্রতিষ্ঠাকাল ও মালিকানা: ডিবিবিএল ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালে, ডিবিবিএল 'রকেট এমএফএস' চালু করে, যা বাংলাদেশে প্রথম বড় আকারের শাখা-বিহীন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এর মাধ্যমে, ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
  • ব্যবসায়িক মডেল ও লক্ষ্য বাজার: রকেটের ব্যবসায়িক মডেল হলো জমা (ক্যাশ-ইন), উত্তোলন (ক্যাশ-আউট), ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর (পিটুপি), ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মার্চেন্ট পেমেন্ট, বেতন বিতরণ এবং আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্সের মতো সেবা প্রদান করা। দেশব্যাপী ডিবিবিএল এজেন্ট নেটওয়ার্ক এবং একটি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে এই সেবাগুলো পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য বাজার হলো শহুরে এবং গ্রামীণ উভয় এলাকার ব্যাংকিং সেবাবঞ্চিত ও স্বল্প সেবাপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীগণ।
  • নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা: রকেট যেহেতু ডিবিবিএল-এর একটি এমএফএস পণ্য, এর নেতৃত্ব ডিবিবিএল-এর নির্বাহী দলের সাথে সংযুক্ত। এই দলের মধ্যে রয়েছেন চেয়ারম্যান: জনাব ফজলুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও: জনাব মোঃ মুখতার হোসেন, এবং ডিজিটাল ও এজেন্ট ব্যাংকিং প্রধান: জনাব এম. এ. মবিন আখতার।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যক্তিগত ঋণ: সুদের হার, শর্তাবলী ও আবেদন প্রক্রিয়া

পুনরায় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, রকেট প্ল্যাটফর্ম সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ঋণ পণ্য অফার করে না। রকেট শুধুমাত্র একটি জমা এবং পেমেন্ট নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে। তবে, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ঋণ পাওয়া সম্ভব।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাপ্ত ব্যক্তিগত ঋণ

ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত ঋণ পেতে হলে গ্রাহকদের ব্যাংকের ঐতিহ্যবাহী চ্যানেল (শাখা বা অনলাইন ব্যাংকিং) এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। রকেটের মাধ্যমে এই ঋণ পাওয়া যায় না। ডিবিবিএল-এর ব্যক্তিগত ঋণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটার নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • ঋণের পরিমাণ: সর্বনিম্ন ৫০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যেতে পারে।
  • সুদের হার: সুদের হার সাধারণত বার্ষিক ১১% থেকে ১৬% এর মধ্যে থাকে, যা গ্রাহকের ক্রেডিট মূল্যায়নের উপর নির্ভরশীল।
  • সময়কাল ও পরিশোধ: ঋণ পরিশোধের সময়কাল সাধারণত ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে, যা মাসিক কিস্তিতে (ইকুয়েটেড মান্থলি ইনস্টলমেন্ট বা ইএমআই) পরিশোধ করতে হয়।
  • ফি ও চার্জ:
    • প্রক্রিয়াকরণ ফি: ঋণের পরিমাণের ০.৫০% পর্যন্ত হতে পারে।
    • আংশিক পরিশোধ এবং আগাম নিষ্পত্তি চার্জ: সমন্বিত/নিষ্পত্তি করা পরিমাণের ০.৫০%।
  • জামানত: জামানতের প্রয়োজনীয়তা আবেদনকারীর প্রোফাইল অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। বেতনভোগী, পেশাজীবী এবং বাড়িওয়ালাদের ক্ষেত্রে গ্যারান্টার বা সম্পত্তির উপর বন্ধক প্রয়োজন হতে পারে।

আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয়তা (ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যক্তিগত ঋণের জন্য)

  • আবেদন চ্যানেল: ব্যক্তিগত ঋণের জন্য আবেদন করতে গ্রাহকদের ডিবিবিএল-এর শাখায় কাগজের ফর্ম পূরণ করতে হয় অথবা ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং পোর্টালের মাধ্যমে ই-ফর্ম পূরণ করে আবেদন করা যেতে পারে।
  • কেওয়াইসি ও অনবোর্ডিং: ডিবিবিএল ব্যক্তিগত ঋণের জন্য শাখাগুলিতে সশরীরে কেওয়াইসি (গ্রাহক পরিচিতি) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এর জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ছবি, আয়ের প্রমাণপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং ইউটিলিটি বিলের মতো নথি প্রয়োজন হয়, যা ডিবিবিএল-এর ক্রেডিট নীতি অনুযায়ী যাচাই করা হয়। রকেট অ্যাপ রেজিস্ট্রেশনের জন্য শুধুমাত্র বৈধ এনআইডি, সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং একটি সেলফি প্রয়োজন হয়।
  • ক্রেডিট স্কোরিং ও আন্ডাররাইটিং: ডিবিবিএল গ্রাহকের ঋণযোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য আয়ের স্থিতিশীলতা, ক্রেডিট হিস্টরি, ঋণ-আয় অনুপাত, কর্মজীবনের মেয়াদ এবং জামানতের মূল্য বিবেচনা করে। রকেট এমএফএস-এর লেনদেনের ইতিহাস ভবিষ্যতে ডিজিটাল ক্রেডিট মূল্যায়নে সহায়তা করতে পারে, তবে বর্তমানে তা রকেট-ভিত্তিক কোনো ক্রেডিট পণ্যের সাথে সংযুক্ত নয়।
  • অর্থ বিতরণ ও সংগ্রহ: অনুমোদিত ঋণের অর্থ গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় বা চেক ইস্যু করা হয়। মাসিক কিস্তি (ইএমআই) স্থায়ী নির্দেশনা, ব্যাংক স্থানান্তর বা ব্যাংক চেকের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। দেরিতে পরিশোধের জন্য জরিমানা ধার্য করা হয়।

রকেট মোবাইল অ্যাপ: বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা

রকেট অ্যাপ মূলত একটি ডিজিটাল লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা প্রদান করে।

অ্যাপের বৈশিষ্ট্য

রকেট অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস উভয় প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ:

  • ডিজিটাল কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহজে অ্যাকাউন্ট খোলা।
  • ক্যাশ-ইন (টাকা জমা) এবং ক্যাশ-আউট (টাকা উত্তোলন) সুবিধা।
  • ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (P2P) অর্থ স্থানান্তর।
  • বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি)।
  • এয়ারটাইম টপ-আপ (মোবাইল রিচার্জ)।
  • আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স গ্রহণ।

ব্যবহারকারীর রেটিং ও পর্যালোচনা

রকেট অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে ৪.২ এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে ৪.৫ রেটিং পেয়েছে (সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত)। ব্যবহারকারীরা সাধারণত অর্থ স্থানান্তরের সহজতা এবং এজেন্টদের প্রাপ্যতা সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত দেন। তবে, অ্যাপের স্থিতিশীলতা এবং মাঝে মাঝে লেনদেনে ব্যর্থতার মতো কিছু সমস্যাও উল্লেখ করা হয়।

প্রযুক্তিগত দিক ও নেটওয়ার্ক

রকেট বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই তার এজেন্ট নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে, যার মধ্যে ১৫,০০০-এর বেশি ডিবিবিএল এজেন্ট আউটলেট রয়েছে, যা প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাকেও কভার করে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন রকেট অ্যাকাউন্ট নিবন্ধিত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই স্বল্প আয়ের ব্যক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং গ্রামীণ পরিবার থেকে এসেছেন।

নিয়ন্ত্রক অবস্থা, বাজার অবস্থান ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্লেষণ

রকেট বাংলাদেশের মোবাইল আর্থিক সেবা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও কমপ্লায়েন্স

  • লাইসেন্স ও তদারকি: রকেট ডিবিবিএল-এর ব্যাংকিং লাইসেন্সের অধীনে পরিচালিত হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক শাখা-বিহীন ব্যাংকিং সেবা হিসেবে নিয়ন্ত্রিত।
  • কমপ্লায়েন্স: এটি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত মোবাইল আর্থিক সেবা বিধিমালা, অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং (এএমএল) এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (সিএফটি) নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রকেট এমএফএস-এর বিরুদ্ধে কোনো জরিমানা বা নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের সরকারি রেকর্ড নেই।
  • গ্রাহক সুরক্ষা: রকেট স্বচ্ছ ফি প্রকাশ, রিয়েল-টাইম লেনদেন সতর্কতা, ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্ট হটলাইন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং ওমবুডসম্যানের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা প্রদান করে।

বাজার অংশীদারি ও প্রতিযোগী

রকেট বাংলাদেশের বৃহত্তম এমএফএস প্রদানকারীদের মধ্যে অন্যতম, লেনদেনের পরিমাণ অনুযায়ী প্রায় ৩৫% বাজার অংশীদারি নিয়ে এটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এটি বিকাশ (যা শীর্ষস্থানীয়) এবং নগদ-এর মতো অন্যান্য ব্যাংক-সমর্থিত এমএফএস প্ল্যাটফর্মগুলির সাথে প্রতিযোগিতা করে।

  • বিকাশ: এর ব্যাপক খুচরা গ্রাহক পৌঁছানোর ক্ষমতা রয়েছে। রকেট সরাসরি ব্যাংক সংযোগ এবং নির্দিষ্ট কিছু সেবায় কম ফি প্রদানের মাধ্যমে নিজেকে আলাদা করে।
  • নগদ: এর শক্তিশালী সরকারি সমর্থন রয়েছে। রকেট ডিবিবিএল-এর ব্যাংকিং অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা ভোগ করে।

রকেটের প্রবৃদ্ধির ধারা বেশ ইতিবাচক। এটি মার্চেন্ট পেমেন্ট সমাধান যোগ করেছে এবং ফিনটেক ঋণদাতাদের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ছোট অঙ্কের ডিজিটাল ঋণ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পরিকল্পনা করছে। বিভিন্ন টেলিকম অপারেটর (যেমন বাংলালিংক), ইউটিলিটি প্রদানকারী, সরকারি সংস্থা (সামাজিক সুবিধা বিতরণের জন্য) এবং গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে এর অংশীদারিত্ব রয়েছে।

গ্রাহক পরিষেবা ও অভিজ্ঞতা

রকেটের গ্রাহক পরিষেবা সাধারণত বেশ ভালো। ২৪/৭ কল সেন্টার এবং ইন-অ্যাপ সাপোর্ট চ্যাটের মাধ্যমে গ্রাহকদের সহায়তা করা হয়। অভিযোগ নিষ্পত্তির গড় সময় প্রায় ২৪ ঘণ্টা। কিছু গ্রাহক মাঝে মাঝে পরিষেবা বিভ্রাট, প্রত্যন্ত এজেন্টদের কাছে দেরিতে বিতরণ এবং এজেন্টের কাছে নগদ অর্থের অভাবের মতো অভিযোগ করে থাকেন। তবে, গ্রামীণ উদ্যোক্তারা সরবরাহকারীকে অর্থ প্রদান এবং রেমিট্যান্সের জন্য রকেট ব্যবহার করে দ্রুত নগদ প্রবাহ এবং ব্যবসার বৃদ্ধিতে সফল হয়েছেন এমন অনেক সাফল্যের গল্পও রয়েছে।

সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ

যদি আপনি ব্যক্তিগত ঋণের জন্য খুঁজছেন, তাহলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি আপনার বিবেচনায় রাখা উচিত:

  • রকেটের মাধ্যমে সরাসরি ঋণ নেই: এটি বারবার মনে রাখা জরুরি যে রকেট মোবাইল অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত ঋণ পাওয়া যায় না। রকেট কেবল একটি ডিজিটাল লেনদেন এবং পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম।
  • ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন: যদি আপনি ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত ঋণ নিতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই ব্যাংকের শাখায় গিয়ে অথবা তাদের অফিশিয়াল অনলাইন ব্যাংকিং পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। ঋণের আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন - জাতীয় পরিচয়পত্র, আয়ের প্রমাণপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি প্রস্তুত রাখুন।
  • সুদের হার ও শর্তাবলী যাচাই করুন: যেকোনো ঋণের জন্য আবেদন করার আগে, সুদের হার, প্রক্রিয়াকরণ ফি, আগাম পরিশোধের চার্জ এবং অন্যান্য শর্তাবলী খুব ভালোভাবে পড়ে ও বুঝে নিন। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী পরিশোধের সময়কাল নির্বাচন করুন।
  • অন্যান্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান: যদি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের শর্তাবলী আপনার জন্য উপযুক্ত না হয়, তবে বাংলাদেশে অন্যান্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তিগত ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সর্বদা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকেই ঋণ গ্রহণ করুন।
  • নিজের আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন: ঋণ নেওয়ার আগে আপনার মাসিক আয় এবং ব্যয়ের হিসাব করে দেখুন। নিশ্চিত করুন যে আপনি মাসিক কিস্তিগুলো নিয়মিত পরিশোধ করতে সক্ষম হবেন। অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ আপনার আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
  • রকেটের ব্যবহার: রকেট এমএফএস প্ল্যাটফর্মটি আপনার আর্থিক লেনদেনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। আপনি এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিল পরিশোধ করতে পারেন, আত্মীয়-স্বজনের কাছে টাকা পাঠাতে পারেন, অথবা আপনার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি (যদি ডিবিবিএল-এর মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা থাকে) জমা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

উপসংহার

'রকেট ব্যক্তিগত ঋণ' নামে কোনো স্বতন্ত্র ঋণ পণ্য বাংলাদেশে না থাকলেও, ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) শাখা 'রকেট' দেশের ডিজিটাল আর্থিক অবকাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শাখা-বিহীন ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাজার নেতা। যারা ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ঋণের সন্ধান করছেন, তাদের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বা অন্যান্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। রকেটের বিস্তৃত এজেন্ট নেটওয়ার্ক, শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং নিয়ন্ত্রক সম্মতি এটিকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেবাবঞ্চিত এবং স্বল্প সেবাপ্রাপ্ত জনসংখ্যার জন্য একটি অপরিহার্য আর্থিক অবকাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

কোম্পানির তথ্য
3.88/5
যাচাইকৃত বিশেষজ্ঞ
জেমস মিচেল

জেমস মিচেল

আন্তর্জাতিক অর্থ বিশেষজ্ঞ ও ক্রেডিট বিশ্লেষক

১৯৩টি দেশে লোন বাজার এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিশ্লেষণে ৮ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা। স্বাধীন গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞ নির্দেশনার মাধ্যমে গ্রাহকদের সুবিবেচিত আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করি।

3 দিন আগে যাচাইকৃত
১৯৩টি দেশ
১২,০০০+ রিভিউ